Monday, December 21, 2015

৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নিয়ে সুশান্ত পালের ব্যক্তিগত কিছু পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ


# কখগঘ এই সিরিয়ালটা বাম থেকে ডানে না দিয়ে উপরেনিচে দেয়াতে অনেক ক্যান্ডিডেটই অন্তত ৩-৪টা জানা প্রশ্নের উত্তর ভুল দাগিয়েছে। পিএসসি এই সাইকোলজিক্যাল গেমটা খেলবে, এটা কেউই ভাবতে পারারও কথা না। এরকম একটা প্রশ্নে ০.৫ নম্বরও অনেক! আপনি এই ধরাটা খেয়ে থাকলে নিজেকে ইউনিক ভাবার কোনো কারণই নাই।
# প্রশ্নটি এসো নিজে করি টাইপ কোনো প্রশ্ন না। তাই, আমি নিশ্চিত পরীক্ষার হলে পিন না শুধু, পালকপতনের নিস্তব্ধতা ছিল। কথা বলে লাভ না থাকলে তো প্রয়োজনে ভুল বৃত্ত ভরাট করাও তো ভাল।
# কোচিং সেন্টার আর গাইডবই পড়েটড়ে তেমন কোনো কাজই হবে না, যদি না নিজের হেডঅফিসে কিছু থাকে। যা কিছু সঞ্চয় করেছেন, তার চাইতে বেশি কাজে লেগেছে, যা কিছু সঞ্চয়ে আছে তা। ভাল প্রস্তুতি নেয়া অপেক্ষা ভাল পরীক্ষা দেয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। (সিভিল সার্ভিসের এন্ট্রি পরীক্ষা এমনই হওয়া উচিত) কীভাবে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাওয়া যাবে, এটার ধরণ, মানে প্রস্তুতিকৌশল নিয়ে নতুনভাবে ভাববার সময় এসে গেছে বোধ হয়। অমুক কোচিং সেন্টারের সাজেশন এত পার্সেন্ট কমন, তমুক গাইডের এত সংখ্যক প্রশ্ন কমন এসব কথা বলার দিন শেষ হতে চলেছে, এটা মনে হল।
# এই পরীক্ষায় গণতন্ত্র আর সাম্যবাদের প্রতিফলন ঘটেছে। গণতন্ত্র কেন? The exam-scripts were the mistake-banks of the candidates, by the candidates, for the candidates. সাম্যবাদ কেন? যারা পড়াশোনা করে গেছে, তাদের যে দশা, যারা পড়াশোনা করে যায়নি, তাদেরও একই দশা। পড়াশোনা করা মানে, পড়াশোনা করা; সেটা এক সপ্তাহেরই হোক আর এক বছরেরই হোক।
# এবারেরটা যেমনতেমন, ৩৬তমটা একেবারে ফাটায়ে দিব যদি আপনি ভাবেন, আপনিই একমাত্র ব্যক্তি যে কিনা পরীক্ষার হলে ২ ঘণ্টার বেশিরভাগ সময়ই শুধু এই কথাটাই ভেবেছে, তবে আমি বলব, আপনি ভুল ভাবছেন। আমার অনেকের সাথেই কথা বলার সৌভাগ্য হয়েছে (যাদের বেশিরভাগই বুয়েট-মেডিক্যালের স্টুডেন্ট, মানে, আমাদের চোখে ভাল স্টুডেন্ট)। আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি, ওই ভাবনাটি ছিল সার্বজনীন। বিশেষ পরিস্থিতিতে পৃথিবীর সব মানুষই একইভাবে ভাবে। পিএসসি চাইলেই সবাইকেই গণহারে ধরা খাওয়াতে পারে।
# ভাব নেয়ার দিন শেষ, মেধায় চলুক বাংলাদেশ আমি জানি, এই কথাটি পিএসসির মাথায় নেই। আমি এমনিই বললাম। আচ্ছা, যদি অবচেতনভাবেও থেকে থাকে, মানে পিএসসি যদি চায়, কাইজেন মেথডে পরীক্ষাপদ্ধতিতে সংস্কার আনবে, তবে আমি তাদেরকে সাধুবাদ জানাব। একইসাথে যারা পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাদেরকে বলব, ভাই, একথা ভাবাটা বোধ হয় ঠিক হবে না যে রিটেনে এতদিন ধরে যে স্টাইলে পড়ে সবাই পার পেয়ে গেছে, আপনিও সেভাবে পড়ে পার পেয়ে যাবেন। একটু ভাবুন কীভাবে করে প্রিপারেশন নিলে ভাল হয়। সময় কম তো! যে চাকরিটা ৩০ বছর আরামে করবেন, সেটার জন্য ৩ মাসও একটু ভাবতে পারবেন না, তা কী করে হয়? ভাল কথা, কাইজেন মানে হল, কোনো একটি সিস্টেমকে ধীরে ধীরে (রাতারাতি নয়) ক্রমাগত উন্নত করা।
# এ পরীক্ষায় ফার্স্ট পারসন, সেকেন্ড পারসন এবং থার্ড পারসনসবার অবস্থাই কমবেশি একই, মানে বাজে অবস্থা। যদি কেউ আপনাকে কী পরীক্ষা দিয়েছ এসব! কিচ্ছু পার না! গাধা (কিংবা গাধী) একটা! এই জাতীয় বকাঝকা দেন, তবে আমি শিওর, হয় উনি বিসিএস প্রিলি দেননি, অথবা উনি ৩৫তম বিসিএস প্রিলি দেননি। উনার কথায় কিছু মনে করবেন না, উনাকে নিজগুণে মাফ করে দিন। উনাকে এই ধরণের একটা প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে বলেন। দেখবেন, উনার নাকের পানি মুছে দেয়ার জন্য উনি কাউকেই পাশে পাবেন না।
# আপনাদের যেসব ফ্রেন্ড হাসিমুখে চাপাবাজি করছেন, প্লাস-মাইনাস করে অ্যাট লিস্ট ১৫০ থাকবে, তাদেরকে কিছুই বলার দরকার নাই। রেজাল্টটা বের হতে দিন। দেখবেন, এদের অনেকেই হাসিমুখেই ফেল মেরে বসে আছেন।
# একেকভাবে ভাবলে একেকরকম আনসার হয়, এমন প্রশ্ন অন্যান্যবারের তুলনায় এবার একটু বেশি ছিল। পিএসসি ইচ্ছে করেই এই গেমটা খেলে যাতে কেউ সেগুলো আনসার না করে সেজন্য। ওসব প্রশ্নের উত্তর পিএসসি যেটাকে ধরে নেবে সেটাই কারেক্ট। জানি, তারপরেও ছেড়ে আসতে ইচ্ছে করে না। লোভে পাপ, পাপে নেগেটিভ মার্কস। ব্যাপার না! সবাই-ই জেনেশুনে বিষপান করে।
# প্রশ্নটি ভালভাবে দেখলে খেয়াল করবেন, আপনার অ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড যা-ই হোক না কেন, আপনি কোনো বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন না। চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন এরকমই হওয়া উচিত।
# এখন থেকে সবসময় পরীক্ষা এই স্টাইলেই হলে প্রশ্নব্যাংক, ডাইজেস্ট, জব সল্যুশন, কোচিং সেন্টারের রাজত্ব কমে যাবে কিংবা ওদেরকে সেবাদানের ধরণ বদলাতে হবে। যে যা বলে তা-ই অন্ধভাবে বেদবাক্য হিসেবে বিশ্বাস করার দিন শেষ। আমরা চাই, শুধু মুখস্থবিদ্যার জোরে কেউ আমলাতন্ত্রে না আসুক।

কালকে থেকে শুরু করে আজকে পর্যন্ত অসংখ্য প্রশ্ন পেয়েছি। একটু ইজি কাজে বিজি ছিলাম, তাই ঠিকসময়ে উত্তর দিতে পারিনি। প্রশ্নগুলোর উত্তর উপরে দেয়ার চেষ্টা করেছি। এরপরও কোনো প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞেস করুন। আমি উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।

৩৫তম বিসিএস প্রিলির কাট-অফ মার্কস কত হতে পারে? মিলিয়ন ডলার কোয়েশ্চেন!!
সত্যি বলছি, আমি পরীক্ষা দিলে আমি নিজেও আদৌ পাস করব কিনা এটা নিয়ে চিন্তায় থাকতাম। প্রশ্ন দেখার পর আমার মনে হয়েছে, আহা! যায় দিন ভাল, আসে দিন খারাপ। বড্ড বাঁচা বেঁচে গেছি! তাই আপনি ভাবতেই পারেন, হায়! আমার কী হবে! আচ্ছা, একটা ব্যাপার খেয়াল করে দেখেছেন? আপনার যে কাহিনী, সবারই কিন্তু কমবেশি একই কাহিনী। এর মানে কী দাঁড়ায়? আপনি কম মার্কস পেলে বেশিরভাগ স্টুডেন্টও কম মার্কস পাবে। দশে মিলি করি ফেল হলে তো আর সমস্যা নাই, তাই না? মিলেমিশে ফেল করবেন, অসুবিধা কী? তাহলে কি পিএসসি সবাইকেই ধরে ধরে ফেল করাবে? এটা তো আর সম্ভব না। তাই, আপনার রিটেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারার সম্ভাবনা একেবারে শুন্য না। আমি যদি এবারের ক্যান্ডিডেট হতাম, তবে আমি এটা কিছুতেই ভাবতে পারতাম না যে এবারের প্রিলির কাট-অফ মার্কস ৯৫য়ের বেশি হবে, আমার নিজের পরীক্ষা যেমনই হোক না কেন!
গুড লাক ফ্রেন্ডস!!
লেখাঃ সুশান্ত পাল, ৩০ তম বিসিএসে প্রথম স্থান অধিকারী

Sunday, December 20, 2015

যে খাবারগুলো কখনোই খালি পেটে খাবেন না



কিছু খাবার রয়েছে যা খালি পেটে খাওয়া একদম ঠিক নয়। সম্প্রতি একটি গবেষণায় এ খাবারগুলোর কথা বলা হয়েছে। এই খাবারগুলো এসিড তৈরি করে এবং অন্ত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। লাইফস্টাইল ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই জানিয়েছে এ খাবারগুলোর কথা।



১. টমেটো
টমোটো খালি পেটে খাওয়া হলে এর মধ্যে বিদ্যমান এসিড গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল এসিডের সাথে মিশে পাকস্থলির মধ্যে বিক্রিয়া করে এক ধরনের অদ্রবণীয় জেল তৈরি করে; যা পাকস্থলিতে পাথর হওয়ার কারণ হতে পারে।

২. সোডা
সোডার মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ কাবোর্নেটেট এসিড। খালি পেটে সোডা খাওয়া হলে এই এসিড স্বাস্থ্যের সমস্যা তৈরি করে এবং বমিবমি ভাব তৈরি করে।

৩. ওষুধ 
কিছু কিছু গ্যাসট্রিকের ওষুধ খাওয়ার আগে খেতে বলা হয়। তবে অধিকাংশ ওষুধ ভরা পেটে খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। যখন খালি পেটে ওষুধ খাওয়া হয় এটা পাকস্থলিতে অস্বস্থিকর অবস্থার তৈরি করে।

৪. মদ্যপান
মদ্যপান শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আর খালি পেটে মদ্যপান আরো ক্ষতিকর। মদের মধ্যে যেসব উপাদান রয়েছে সেগুলো অন্ত্রের জ্বালাভাব তৈরি করে।

৫. ঝাল জাতীয় খাবার
আমরা অনেকেই ঝাল জাতীয় খাবার খেতে ভালোবাসি, তবে খালি পেটে ঝাল জাতীয় খাবার খাওয়া ঠিক নয়। এর ফলে এসিডিক বিক্রিয়া হয়ে পেট জ্বালাভাব তৈরি হয়।

৬. কফি
খালি পেটে কফি খাওয়া খুবই ক্ষতিকর। কফির মধ্যে থাকা ক্যাফেইন পাকস্থলির জন্য ভালো নয়। তাই খেতে হলে আগে অন্তত একগ্লাস পানি খেয়ে নিন।

৭. চা
চা-ও কফির মতো, খালি পেটে খাওয়া ঠিক নয়। চায়ের মধ্যে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় এসিড যা পাকস্থলির আবরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

৮. দই 
দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান স্বাস্থ্যকর। তবে যদি এটা খালি পেটে খাওয়া হয় তবে স্বাস্ব্যকর নয়। দইয়ে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলির আবরণের রসের সাথে মিশে পেটকে খারাপ করতে পারে।

৯. মিষ্টি আলু
আপনি কি জানেন মিষ্টি আলুর মধ্যে রয়েছে ট্যানিন এবং পেকটিন? এটা বেশি পরিমাণে এসিড নিঃসরণ করে পাকস্থলির দেয়ালকে সংকুচিত করে। এর ফলে বুক জ্বালাপোড়া হয়।

১০. কলা
খালি পেটে কলা খাওয়া হঠাৎ করে শরীরে ম্যাগনেসিয়াম বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে রক্তে ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের ভারস্যাম্য নষ্ট করে। তাই কলা খালি পেটে না খাওয়ার পরামর্শই দেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বামীর যেসব গুণাবলী ভালোবাসেন স্ত্রী

স্ত্রীর ভালোবাসা অর্জনের জন্য পুরুষকে হতে হয় স্ত্রীর কাছে সবার চেয়ে উত্তম। একজন পুরুষ ভালো জীবনসঙ্গী হিসেবে তার স্ত্রীর কাছে ভালো স্বামী হতে পারেন নানান উপায়ে। স্বামী হিসেবে আপনার স্ত্রীর আপনার যেসব গুণাবলীকে ভালোবাসেন তার মাঝে উল্লেখযোগ্য কিছু গুণ হলো

১. স্ত্রীর প্রতি সুন্দর ব্যবহার। উত্তম শব্দ ব্যবহার করে কথা বলা। তার প্রতি নম্র থাকা।
২. জীবনসঙ্গিনীর অধিকারের বিষয়গুলো অবহেলা না করা, তা পরিপূর্ণভাবে পূরণ করতে চেষ্টা করা।
৩. বাইরে নানান কাজে থাকলেও অন্য কোনো মহিলার ব্যাপারে আগ্রহী না হওয়া। দৃষ্টিকে সংযত রাখা, হৃদয়েকেও অত্যন্ত সচেতনভাবে সতর্ক রাখা।

৪. নিজে ইসলাম শেখা, স্ত্রীকে শেখানো এবং তাকে উৎসাহিত করা। দুজনে মিলে ইসলামকে পালনের চেষ্টা করা।
৫. জীবনসঙ্গিনী যখন খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যায়, শক্ত অবলম্বন হয়ে তার পাশে থাকা।

৬. যদি স্ত্রী কখনো কষ্ট বা আঘাত দিয়ে ফেলে, নিজেকে শান্ত রাখা। খেপে না গিয়ে ধরেই নেওয়া স্ত্রী হয়ত ইচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট দিতে চাননি, অসতর্কতায় এমনটি হয়ে গেছে।

৭. জীবনসঙ্গিনীর ছোট ছোট ভুলগুলো এড়িয়ে যাওয়া এবং তার ভালো কাজগুলোকে উৎসাহিত করা। তার পরিশ্রমের কাজগুলোর ব্যাপারে প্রশংসা করা।

৮. ঘরের কাজগুলোতে স্ত্রীকে সাধ্যমতন সাহায্য করা। তার জন্য কাজ ফেলে রেখে না দেওয়া।

৯. সন্তানদেরকে ধর্মীয় জ্ঞানে এবং আচরণে বড় করার ব্যাপারে সচেতন থাকা। সন্তানদের ধর্মীয় আদর্শে বড় করা নিয়ে স্ত্রীর সাথে আলোচন এবং চিন্তাভাবনা করা।

কেননা, বাবা-মায়ের আচরণ সন্তানদের প্রভাবিত করে, তাই বাবা-মায়েরা নিজেরাও সচেতন থাকেন নিজেদের ব্যক্তিগত চরিত্র, স্বভাব এবং আচরণ নিয়ে।