Showing posts with label বিউটি টিপস. Show all posts
Showing posts with label বিউটি টিপস. Show all posts

Friday, December 4, 2015

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নেয়ার কিছু জরুরী কৌশল



যদিও স্কিন অয়েল ত্বকের সুরক্ষায় কাজ করে এবং বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ ঠেকাতে যুদ্ধ করে তথাপি অনেকেই মাত্রাতিরিক্ত তেল নিঃসরণের সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিশেষ করে টিনএজাররা এই সমস্যায় বেশি ভোগে। যে কোন বয়সের মানুষেরই এই সমস্যা হতে পারে যার কারণে হোয়াইটহেডস, ব্ল্যাকহেডস, ব্রণ ও অন্যান্য সমস্যা হয়। সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থেকে সিবাম নামক অতিরিক্ত তেল নিঃসৃত হয়ে ত্বককে তৈলাক্ত করে। যাদের ত্বকের অবস্থা এই রকম তাদের ত্বক চকচকে হয় ও ছিদ্র গুলো অনেক বড় হয়।
 তৈলাক্ত ত্বকের কারণ
►– জিনগত,
►– খাদ্যের পছন্দ,
►– মানসিক চাপ ও
►– বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে তৈলাক্ত ত্বক হতে পারে।
►– মহিলাদের পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে,
►– গর্ভাবস্থায়,
►– মেনোপোজের সময় এবং
►– যারা জন্মনিয়ন্ত্রণ এর ঔষধ গ্রহণ করেন তাদের তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা হয়।
তৈলাক্ত ত্বকের ভালো দিক
সাধারণ ও শুষ্ক ত্বকের চেয়ে তৈলাক্ত ত্বকে বলিরেখা কম দেখা যায়। যার ফলে ত্বকে তাড়াতাড়ি বয়সের ছাপ পড়ে না।
ঘরোয়া কিছু উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এবার আসুন জেনে নেয়া যাক উপায় গুলো কী।
১। শসা
শসা ত্বককে শীতল করে বলে ফেসিয়াল করার সময় ও স্পাতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও এতে ভিটামিন ও মিনারেল আছে যা ত্বকের তৈলাক্ততা, ফোলা ও লাল হয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে।
►– একটি শসা স্লাইস করে নিয়ে মুখে ঘষুন
►– এভাবে সারারাত রেখে দিন
►– সকালে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন
►– প্রতিদিন এটা করুন।
২। লেবু
লেবুর রসে সাইট্রিক এসিড আছে যা অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট হিসেবে কাজ করে।এছাড়াও এতে অ্যান্টিসেপ্টিক উপাদান আছে যা ত্বকের কালো ভাব দূর করে এবং pH ব্যালেন্স ঠিক করে।
►– অর্ধেক টেবিলচামচ বিশুদ্ধ পানির সাথে ১টেবিলচামচ লেবুর রস মিশান
►– কটন বল দিয়ে মিশ্রণটি আপনার ত্বকে লাগান
►– ১০ মিনিট পর উষ্ণ গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন
►– দিনে একবার এটা ব্যবহার করুন।
►– লেবুর রস ত্বককে শুষ্ক করে দেয়।তাই মুখ ধোয়ে অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার লাগান।
টিপস
►– মুখে পাউডার লাগালে অতিরিক্ত তেল দূর হয়।
►– আপনার ব্যাগে সবসময় ওয়াইপস বা ভেজা টিস্যু রাখুন যেন অতিরিক্ত তেল মুছে ফেলতে পারেন।
►– ঠান্ডা পানির চেয়ে গরম পানি দিয়ে মুখ ধুলে অতিরিক্ত তেল দূর হয়।
►– ডিমের সাদা অংশ, টম্যাটো, আপেল, অ্যালোভেরা ইত্যাদির প্যাক ও ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করতে পারে।
►–  কসমেটিকস ব্যবহার কমিয়ে দিন।
►– বেশি বেশি মুখ ধোয়া ত্বকের জন্য মোটেই ভালো নয়। দিনে ২ বার মুখ ধোন।
►– সাবান ব্যবহার না করা ভালো।
►–  ক্রিম ব্লাশ বা আইশ্যাডো ব্যবহার না করে পাউডার ব্লাশ বা আইশ্যাডো ব্যবহার করুন।
এটা শুনতে একটু বিপরীত মনে হবে যে, তৈলাক্ত ত্বকেরও ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন। আদ্রতা ও তেল দুটি ভিন্ন জিনিষ। তৈলাক্ত ত্বকও পানিশূন্য হতে পারে,তাই ত্বকের সুস্থতার জন্য আদ্রতা বজায় রাখা প্রয়োজন। হাল্কা অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

Sunday, November 15, 2015

শীতে দিন এবং রাতে ঠোঁটের স্পেশাল কেয়ার

এখন শীতকাল। শীতের রুক্ষতা থেকে শরীরের তথা মুখের এই ছোট অংশ ঠোঁটও বাদ পড়ে না। শীতে ঠোঁট ফাটা একটি কমন সমস্যায় পরিণত হয়। আসুন জেনে নিই কীভাবে ঠোঁট ফাটা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। 




যা করবেন না আর যা করবেন

  • ঠোঁটের সুরক্ষায় কী কী করবেন তা জানার আগে জেনে নিন কী কী করা যাবে না।
    অনেকেই ঠোঁট ভেজানোর জন্য জিভ ব্যবহার করে থাকেন। এটা নিতান্ত বদ অভ্যাস। কারণ ঠোঁট এতে নরম তো হয় না বরং ঠোঁট ফাটার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর বদলে সঙ্গে একটা লিপ-বাম বা লিপ-জেল রাখুন এবং ঠোঁট শুকনো লাগলেই একটু মেখে নিন। আর হাত-মুখ ধোয়ার সময় বা দাঁত মাজার সময় কোনোভাবেই যাতে ঠোঁটে জোরে জোরে ঘষা-মাজা না লাগে তা খেয়াল রাখা দরকার। এ সময় নরম ঠোঁটে আঁচড় পড়লে তা ভোগাতে পারে। 

  • যাদের ঠোঁটের রঙ কালো বা দাগ আছে তারা সমপরিমাণ গ্লিসারিন ও লেবুর রস মিশিয়ে ঠোঁটে লাগাতে পারেন। ভালো কাজ দেবে। 

  • অনেকের ঠোঁট বেশি শুষ্ক। তাদের ঠোঁটই বেশি ফেটে থাকে। তাদের উচিত সঙ্গে সবসময় পেট্রলিয়াম জেলি রাখা। যখনই ঠোঁট শুষ্ক লাগবে তখনই পেট্রলিয়াম জেলি বা লিপবাম লাগাবেন। 

প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে।
  • এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। অনেক সময় ডিহাইড্রেশনের ফলে ডার্ক লিপ্সয়ের সমস্যা হতে পারে | তাই শরীর আর্দ্র রাখতে প্রচুর পানি পান করতে হবে।
  • খুব ঠাণ্ডা হাওয়া থেকে মুখের ত্বক বাঁচাতে স্কার্ফ পরা যেতে পারে।

নরম গোলাপি ঠোঁট

ঠোঁট সুন্দর করতে ঘোরোয়া কিছু সহজ উপায় মেনে চললেই হয়।


  • শিবানী দে বলেন, প্রথমেই ঠোঁট পরিষ্কার করার সহজ একটি উপায় জানা যাক। কাঁচা দুধ আর মধু একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি সাদা পরিষ্কার কাপড় বা তুলা ওই মিশ্রণে ভিজিয়ে ঠোঁটে ঘষে নিতে হবে। এতে ঠোঁট পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি মসৃণ ও সুন্দর হবে।

এরপর ঠোঁট স্ক্রাবিয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জানান তিনি।
  • এক চা-চামচ অলিভ অয়েলের সঙ্গে এক চা-চামচ চিনি মিশিয়ে ঠোঁটের জন্য ঘরোয়া স্ক্রাব তৈরি করা যায়। এই মিশ্রণ ঠোঁটে লাগিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট ধরে আলতো করে ঘষে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তারপর ঠোঁটে লিপ বাম লাগিয়ে নিতে হবে। এই ঘরোয়া স্ক্রাব ঠোঁটের মরা কোষ পরিষ্কার করে ঠোঁটকে নরম ও গোলাপি করতে সাহায্য করবে।


ঠোঁট নরম করার উপায়


  • পাকা পেঁপে চটকে তার সঙ্গে দুধের মাঠা মিশিয়ে একটা মিশ্রণ করতে হবে। সেটা ঠোঁটে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই প্রলেপ ঠোঁটের পুষ্টিও জোগাবে।
  • সমান পরিমাণে লেবুর রস আর মধু মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করতে হবে| এরপর ভালো করে মিশ্রণটি ঠোঁটে লাগিয়ে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে নরম কোনও ভেজা কাপড় দিয়ে আলতো করে ঘষে তুলে ফেলতে হবে| এটি চাইলে প্রতিদিনে এবং দিনে একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে।

রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে গ্লিসারিন ব্যবহার

  • সান ট্যান ছাড়াও ঠোঁট বেশি শুষ্ক হয়ে গেলে ঠোঁট কালো হয়ে যেতে পারে| রোজ রাতে ‍ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালো করে ঠোঁটে গ্লিসারিন লাগিয়ে নিতে হবে| এর ফলে ঠোঁটে আর্দ্রতার পরিমাণ ঠিক থাকবে আর নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁটের রং-ও স্বাভাবিক হয়ে আসবে| ঠোঁটের কালো দাগ দূর করতেও এই পদ্ধতি বেশ উপকারী|
  • ঠোঁটে এক টুকরা বিট নিয়ে হাল্কা করে ঠোঁটে মালিশ করতে হবে| বিটের রস ট্যান বা পোড়াভাব দূর করতে সাহায্য করে আর কিছুদিনের মধ্যেই ঠোঁটের রং স্বাভাবিক গোলাপি হয়ে উঠবে|

শসার রস কালো দাগ উঠাতে দারুণ কার্যকর।
  • রোজ নিয়ম করে ঠোঁটে শসার রস লাগালে কিছুদিনের মধ্যেই ঠোঁটের কালচেভাব অনেকটাই কমে আসবে।
  • ঠোঁটের ত্বক অত্যন্ত নমনীয়। তাই বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত। ঠোঁটে লিপ বাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে এপিএফ যুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করতে হবে।

শিবানী দে বলেন, সস্তা বা কম দামি লিপ প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে ঠোঁট কালো হয়ে যেতে পারে এবং আরও অনেক ধরনে ক্ষতি হতে পারে। ঠোঁটের জন্য হার্বাল লিপ বাম ব্যবহার করা সব থেকে ভালো।
গোলাপ-মধুর লিপ-প্যাক

  • শীতে ঠোঁটের যত্নে ঘরে বসে নিজেই নিজের জন্য তৈরি করে নিতে পারেন সাশ্রয়ী লিপ-প্যাক। কিছু গোলাপের পাপড়ি টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে নিন। এবার পাপড়িগুলো ভালো করে চটকে নিয়ে সঙ্গে খানিকটা মধু মিশিয়ে একটা মণ্ড তৈরি করে ফেলুন। মণ্ড তৈরি হয়ে গেলে তা আলতো করে ওপরের ও নিচের ঠোঁটে মাখুন। ঠোঁটের ওপর মণ্ডটা শুকিয়ে যেতে ধরলে পানি দিয়ে করলে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। মধু ঠোঁটকে পুষ্টি জোগাবে এবং গোলাপ পাপড়ির রস কোমল ঠোঁট দুটোকে গোলাপি আভায় রাঙিয়ে তুলবে।

সরষে-ঘিতে ঠোঁটের যত্ন
  • রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হাতের তালুতে একটু সরিষার তেলের সঙ্গে সামান্য একটু ঘি নিয়ে আঙুলে ডগায় করে আলতোভাবে ঠোঁটে মেখে রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজতে আয়নার সামনে দাঁড়ালেই টের পাবেন ঠোঁটের এই যত্নের সুফল। মাঝেমধ্যে এই টোটকায় আপনার ঠোঁট বাড়তি চমক দেখাবে আপনাকে।

রাতের বেলায় ঠোঁটের যত্ন

  • ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠোঁটকাঠির রঙের প্রলেপ তুলে ফেলেছেন। এবার বিছানায় যাওয়ার পালা। কিন্তু ঠোঁটকে একটু বাড়তি সময় দিন। একটুখানি দুধ-মালাই দিয়ে ঠোঁট দুটো আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। সামান্য কিছুক্ষণ এমন ম্যাসাজে ঠোঁটে রক্ত চলাচল বাড়বে এবং দুধ-মালাই থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পাবে আপনার ঠোঁট। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন আপনার ঠোঁট শীতের ঠান্ডা মোকাবিলায় প্রস্তুত।

Tuesday, November 10, 2015

শীতে ত্বক ও চুলের পরিচর্যা

শীতকালে ত্বক ও চুল রুক্ষ হয়ে যায়, চেহারা হারায় তার স্বাভাবিক শ্রী, তাই ত্বক ও চুলের বিশেষ যত্ন নেয়া প্রয়োজন। সঠিক ক্রিম, তেল, সাবান, শ্যাম্পুর ব্যবহার, প্রয়োজনীয় খাদ্যগ্রহণ ও জীবনযাত্রার সামান্য পরিবর্তন আনার মাধ্যমে আমরা শীতকালেও ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বজায় রাখতে পারব।
শীতকালে ক্রিম, সাবান যাই ব্যবহার করবেন লক্ষ রাখবেন তা যেন ময়েশ্চারাইজারযুক্ত হয়। দিনে অন্তত দুবার ক্রিম ব্যবহার করবেন। আলফা হাইড্রক্সি বা ভিটামিন-ই যুক্ত ক্রিম ব্যবহার করা ভালো। গোসলের আগে শরীরে অলিভ অয়েল মাখতে পারেন অথবা গোসলের শেষে অল্প পানিতে কিছুটা অলিভ অয়েল দিয়ে গা ধুয়ে নিন। তারপর আলত করে গা মুছবেন।
সাধারণত আমরা মনে করি, শীতকালে সানস্ক্রিন প্রয়োজন হয় না। এটি ভুল ধারণা। ত্বক বিশেষজ্ঞের মতে, টঠঅ রশ্মি ত্বকের পক্ষে ক্ষতিকারক। টঠঅ রশ্মি ত্বকে দ্রুত বলিরেখা ফেলতে সহায়তা করে। ত্বকে উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে বার্ধক্যজনিত সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। একথা ঠিক যে, সূর্যরশ্মি সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের জন্য প্রয়োজন। এতে যে ভিটামিন পাওয়া যায় তা প্রয়োজনীয়। কিন্তু বেশি সূর্যরশ্মি ও টঠঅ রশ্মি ত্বকে অপূরণীয় ক্ষতি ও অকালবার্ধক্যের কারণ। সানস্ক্রিন টঠঅ-এর দাহ্যতা কমিয়ে দেয়। শীতকালেও নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
শীতে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে বিধায় ত্বকের এপিডার্মাল লেয়ার থেকে আর্দ্র ভাব কমে যায়। এর ফলে ত্বকে বলিরেখা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ময়শ্চারাইজারযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। তা ছাড়া গোলাপজল ও গ্লিসারিন ৩:১ অনুপাতে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। শীতের আরেক সমস্যা হচ্ছে ঠোঁট ফাটা ও কালো হয়ে যাওয়া। এর সমাধানও গ্লিসারিন। বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাবেন না। আর ঘুমাতে যাওয়ার আগে গ্লিসারিন লাগাবেন।
হাত-পায়ের ত্বক ফেটে গেলে তারপর গ্লিসারিন বা ভেসলিন না মেখে বরং ফেটে যাওয়ার আগেই গ্লিসারিন মেখে নেয়া ভালো।
শীতে ত্বকের যত্নে আপনাকে অবশ্যই কিছু সময় দিতে হবে। মহিলারা যারা নিয়মিত ফেসিয়াল, স্ক্র্যাব ম্যাসাজ করান তারা শীতকালেও নিয়মিত চালিয়ে যান। শীতকালের জন্য ফেসিয়াল ও স্ক্র্যাব ম্যাসাজ বেশ ভালো। কারণ এতে ত্বকের মরা কোষ উঠে যেতে সাহায্য করে।
বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকার কারণে শীতে চুল হয়ে উঠে রুক্ষ এবং খুশকির উপদ্রব হয়। খুশকির জন্য ভালো শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। প্রয়োজনে ত্বক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। বাজারচলতি বা আকর্ষক বিজ্ঞাপনে মুগ্ধ হয়ে কখনো শ্যাম্পু কিনবেন না। ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী নিজোরাল শ্যাম্পু কিংবা সেলসান শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।
চুল সাধারণত দুরকম, তৈলাক্ত ও শুষ্ক, চুল তৈলাক্ত হওয়ার অর্থ যে ত্বকের ওপর আপনার চুল অর্থাৎ স্ক্যাল্প সেই ত্বকে সেবাশিয়াস গ্রন্থির অতিরিক্ত সেবাম নিঃসরণের ফলে চুল তৈলাক্ত হয়ে পড়ছে। আর চুল শুষ্ক হওয়ার অর্থ যে ত্বকের ওপর আপনার চুল অর্থাৎ স্ক্যাল্প সেই ত্বকে সেবাশিয়াস গ্রন্থির ক্ষরণ খুব কম হয় যার ফলে চুল শুষ্ক হয়ে পড়ছে।
তৈলাক্ত চুলের ক্ষেত্রে স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা জরুরি। একদিন অন্তর অন্তর চুলের উপযোগী শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুলে ভালো। শুষ্ক চুলের ক্ষেত্রে হটওয়েল থেরাপি ভালো কাজ করে। সামান্য গরম অলিভ অয়েল চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করে তারপর গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মাথায় জড়িয়ে রাখতে হবে ১৫ মিনিট। এরপর চুলের উপযোগী শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল ধুয়ে ফেলবেন।
ভেজা চুল কখনো আঁচড়াবেন না। তোয়ালে দিয়েও খুব ঘষে চুল মুছলে চুলের ক্ষতি হয়। ভিজা চুল কখনো বাঁধবেন না।
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বজ্রাসনে বসে চুল আঁচড়াবেন। এতে চুল পড়া বন্ধ হবে এবং আপনি মানসিক চাপমুক্ত হয়ে ঘুমাতেও পারবেন
শীতকালে ত্বকের ও চুলের যত্নে কিন্তু আপনাকে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও মনোযোগী হতে হবে। শীতের শাকসবজি ও ফল সুন্দর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক ও চুলের জন্য প্রয়োজন। শিম, বরবটি, নানারকম শাক, মটরশুঁটি, ফুলকপি, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। দেশী-বিদেশী, হাতের নাগালের সব ফলই প্রতিদিন খাবেন। আপেল, আমলকী কিংবা আমড়া সে যা-ই হোক না কেন।
আরেকটি প্রয়োজনীয় ছোট টিপস দিয়ে আজকের লেখা শেষ করছি। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে আধাগ্লাস ঈষদুষ্ণ পানিতে এক চামচ মধু ও এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খেয়ে নেবেন। এই শীতেও সবার ত্বক হবে লাবণ্যময় আর চুল হবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।


লেবুর ব্যবহারে শরীরের কালো দাগ দূর করে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলুন

দেহ ত্বককে কোমল এবং দাগমুক্ত রাখার জন্য লেবু একটি চমৎকার উপাদান। সৌন্দর্য চর্চায় লেবু দিয়ে শরীরের কালো দাগ দূর করা থেকে শুরু করে ব্রণ কমানো কিংবা চোখের নিচের কালো দাগ নিয়ন্ত্রণ করা, সব সম্ভব। আসুন জেনে নেই ব্যাবহার পদ্ধতিঃ


১) ত্বকে অনেক সময় কালো দাগ দেখা যায়। এক্ষেত্রে একটি ছোট শসার সাথে একটি পাতি লেবুর রস, ১ চামচ ব্রান্ডি ও ১ চা চামচ ডিমের সাদা অংশ, দুচামচ গোলাপ পানি মিশিয়ে ত্বকে ধীরে ধীরে মালিশ করবেন। কালো দাগতো দূর হবেই, সেই সাথে ত্বক হবে আকর্ষণীয়, কোমল ও উজ্জ্বল।

) হাতের কনুই, হাঁটু, পায়ের গোড়ালি এসব জায়গায় বেশি ময়লা জমে। এ নিয়ে অনেকেরই দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই। আধা টুকরো লেবু নিয়ে এই জায়গাগুলোতে ভাল করে ঘষে নিলে ময়লা উঠে গিয়ে ঝকঝকে হয়ে উঠবে। হাত ও পায়ের রুক্ষভাব দূর করতে লেবুর রসের সঙ্গে চালের গুড়ো মিশিয়ে হাত পায়ে লাগান।

) লেবুতে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের ভাঁজ ও দাগ দূর করে। লেবুতে থাকা ভিটামিন-সি ব্রণ বা অ্যাকনে সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া দূর করে।

) অ্যারোমাথেরাপির ক্ষেত্রেও লেবু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বয়সজনিত মুখের দাগ সারাতে লেবুর রস কার্যকর। লেবুর রস ব্যবহারে মুখের ব্রণও দ্রুত কমে।

) লেবুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। রোদে পোড়া ত্বক ঠিক করতে লেবু কার্যকর।

) ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে সমপরিমাণ শসার রস ও লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে তুলার সাহায্যে মুখে লাগান। ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হয়ে ত্বক সতেজ হবে। মিশ্রণটি মুখে লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে যদি জ্বলে, তবে দ্রুত ধুয়ে ফেলুন। সে ক্ষেত্রে লেবু ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলতে পারে।

) ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করার ক্ষেত্রে লেবুর রস ও দুধের মিশ্রণও বেশ কার্যকর। একটি বড় লেবুর অর্ধেক অংশ কেটে তার রস বের করে নিন। এবার তার সঙ্গে ১০ টেবিল চামচ তরল দুধ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। ধীরে ধীরে পুরো মুখে ম্যাসাজ করুন, ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। লেবু ত্বকের তেল দূর করে আর দুধ ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখে। এই মিশ্রণটি চোখের চারপাশে সাবধানে লাগাতে হবে।

) একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে অর্ধেকটা লেবুর রস ও এক টেবিল চামচ কমলা লেবুর রস কুসুম গরম পানি দিয়ে পেস্টের মতো করে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ২০ মিনিট রাখুন। শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করার পাশাপাশি উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

) একটি বড় লেবুর অর্ধেক অংশ কেটে রস বের করে নিন। তাতে ২ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। ত্বকে টান টান ভাব হলে ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। মধু ত্বক উজ্জ্বল করবে। লেবুর প্রাকৃতিক ব্লিচিং গুণ ত্বককে আরো ফর্সা করবে।

১০) মুখের মেছতা বা অন্যান্য দাগ দূর করতে স্কীনের উপর ভ্যাপার নেবার পর ১ চামচ মুলতানি মাটি ও আদা চামচ ট্যালকম পাউডার গোলাপ পানির সাথে মিশিয়ে সেই মিশ্রণে কয়েক ফোটা গ্লিসারিন ও লেবুর রস মেশান। মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে কুসুম কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এই মিশ্রণটি ৩/৪ দিন ব্যবহার করবেন।

১১) রাতে ঘুমাতে যাবার আগে ১ চামচ দুধের সরের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ধীরে ধীরে তা ত্বকে মালিশ করে নিন। সকালে উঠেই তা ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের উপরি দাগগুলো উঠে যাবে।

১২) পায়ের রুক্ষভাব দূর করতে লেবুর রসের সাথে অল্প মিহি চিনি মিশিয়ে মালিশ করে নেবেন। দশ মিনিট পর হাত ধুয়ে নিন কুসুম গরম পানিতে। দেখবেন হাত-পা কেমন পেলব কোমল মসৃণ হয়ে উঠেছে।

১৩) ঘরের কাজ যেমন কাপড় কাচা, বাসন মাজা, ঘর মোছা, এসব কাজ করতে করতে হাতে কড়া পড়ে যায়। হাতের মোলায়েম ভাব নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে গোলাপ পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে হাতের পাতায় মাখুন। এছাড়া হাতের রুক্ষ্মতা দূর করার জন্য নিয়মিত টমেটোর রস, লেবুর রস ও কাঁচা দুধ একসাথে মিশিয়ে গোসলের আগে পনেরো-বিশ মিনিট ত্বকে মেখে নেবেন।